15 বার প্রদর্শিত
"বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন (3,235 পয়েন্ট)  

1 উত্তর

0 পছন্দ 0 জনের অপছন্দ
উত্তর প্রদান করেছেন (1,229 পয়েন্ট)  

স্বাভাবিক ভাবে হোক বা মজার বিষয়েই হোক আমরা সাধারণত আঙ্গুল ফুটিয়ে থাকি। অনেক সময় দেখা যায় বাচ্চারা আঙ্গুল ফোটানো নিয়ে প্রতিযোগিতা করে থাকে। তাই আঙ্গুল ফোটানে আমাদের সবার পরিচিত একটি অভ্যাস। আঙ্গুল বলতে শুধু হাত বা পায়ের আঙ্গুল নয় অনেককে ঘাড় ফুটাতেও দেখা যায়।

এছাড়া বিভিন্ন কাজ-কর্ম করার সময়, চলাফেরা করার সময়, ব্যায়াম করার সময় বা নামাজ পড়ার সময় দেখা যায় প্রায়শ অনিচ্ছাকৃত ভাবে আমাদের কনুই, হাঁটু, গোড়ালি সহ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের সংযোগ শব্দ করে ফুটে উঠে।
আমরা হয়তো মনে করি এক হাড়ের সাথে আরেক হাড়ের ঘষা লাগার ফলে এই শব্দের সৃষ্টি হয়। কিন্তু বিষয়টি মোটেও তা নয়। আমাদের শরীরের হাড়গুলোর সংযোগস্থলগুলো একগুচ্ছ সুতার মতো তন্তু বা লিগামেন্ট দ্বারা আবদ্ধ থাকে। এই লিগামেন্টগুলোর বন্ধনী আমাদের শরীরের দুই পাশের হাড় শক্ত করে ধরে রাখে। হাড়ের এই তন্তুগুলো কিছুটা স্থিতিস্থাপক। যখন কোনও কারণে হাত বা পায়ের জোড়ায় অস্বস্তি লাগে তখন আমরা ওই গোঁড়ায় চাপ বা মোচড় দিয়ে স্বস্তি লাভ করার চেষ্টা করি। এই চাপ বা মোচড়ের কারণে সংযোগ স্থলের হাড় দুই পাশে সামান্য সরে যায়। ফলে কিছু সময়ের জন্য সেখানে ফাকা জায়গার সৃষ্টি হয়। এই ফাকা জায়গা সৃষ্টি হওয়ার ফলে আশেপাশের পেশী ও তন্তু কলায় সঞ্চিত তরল দ্রুত ওই শূন্যস্থানের দিকে ছুটে যায়। বিভিন্ন দিক থেকে দ্রুত ছুটে আসা এই তরল পদার্থগুলো একসাথে খালি স্থানে চলে এলে তাদের মিলিত হওয়ার একটা শব্দ হয়ে থাকে। যাকে বলা যেতে পারে ছোট একটা বিস্ফোরণ। আর সেই শব্দটিই আমরা শুনতে পাই এবং এটিকে আমরা আঙ্গুল ফোটানোর শব্দ মনে করে থাকি। পরে দ্রুত ছুটে আসা তরল পদার্থ গুলো আবার ধীরে ধীরে চারপাশে মিশে যায় এবং দুই পাশের হাড় আবার তার বন্ধনীতে আবদ্ধ হয়ে যায়। হাড়গুলো তার বন্ধনীতে মিলিত হবার ক্ষেত্রে তরল পদার্থের চেয়ে একটু বেশী সময় নিয়ে থাকে। ফলে একবার আঙ্গুল ফোটানোর কিছু সময় পর পর্যন্ত পুনরায় আঙ্গুল ফোটানো যায় না।
আঙ্গুল ফোটানো একটি মন্দ অভ্যাস। আঙ্গুল ফোটালে শরীরের তেমন কোনও ক্ষতি হয় না। তবে অতিরিক্ত আঙ্গুল ফোটালে অতিরিক্ত চাপের কারণে হাড়ের সমস্যা হতে পারে বা হাড়ের স্থান চ্যুতি ঘটতে পারে।
বর্তমানে এক গবেষণায় দেখা গেছে মাঝে মাঝে আঙ্গুল ফোটালে অস্থির ক্ষতজনিত রোগ আর্থ্রায়টিস বা অস্টিওআর্থ্রায়টিস রোগ হওয়ার আশংকা কিছুটা কম থাকে। তবে ঘাড় ফোটানো পরিহার করা উচিত, কারণ ঘাড় ফোটাতে গিয়ে ঘাড়ে স্থায়ী ব্যথা, ঘাড়ের রগের বড় ধরনের সমস্যা বা এমনকি মৃত্যুও ঘটতে পারে। 

ধন্যবাদ। 

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

1 উত্তর
11 এপ্রিল "সাধারণ জ্ঞান" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন সবুজ সরকার (37 পয়েন্ট)  
1 উত্তর
06 জুলাই "যৌন" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Sirazul islam (2,552 পয়েন্ট)  
1 উত্তর
08 এপ্রিল "সাধারণ জ্ঞান" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Rasel (4,031 পয়েন্ট)  
1 উত্তর
04 জুলাই "সাধারণ জ্ঞান" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন ALADIN (1,010 পয়েন্ট)  
0 টি উত্তর

19,938 টি প্রশ্ন

17,751 টি উত্তর

2,380 টি মন্তব্য

1,071 জন সদস্য



প্রশ্ন অ্যানসারস এমন একটি প্ল্যাটফর্ম, যেখানে কমিউনিটির এই প্ল্যাটফর্মের সদস্যের মাধ্যমে আপনার প্রশ্নের উত্তর বা সমস্যার সমাধান পেতে পারেন এবং আপনি অন্য জনের প্রশ্নের উত্তর বা সমস্যার সমাধান দিতে পারবেন। মূলত এটি বাংলা ভাষাভাষীদের জন্য একটি প্রশ্নোত্তর ভিত্তিক কমিউনিটি। বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার পাশাপাশি অনলাইনে উন্মুক্ত তথ্যভান্ডার গড়ে তোলা আমাদের লক্ষ্য।

...